রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন রুনির ছোট ভাই নওশের রোমান।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হত্যাকাণ্ডের পর থানা পুলিশ, ডিবি ও র্যাবসহ একাধিক সংস্থা তদন্ত করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান আসেনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগটি রেজিস্টারভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। গত ৩০ আগস্ট সাংবাদিকদের তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না, তবে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্ত শেষ হয়নি।
সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯তম বারের মতো পিছিয়ে যায়। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত প্রথমে ডিবির হাতে থাকলেও ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তা র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময়েও অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়।
পরবর্তীতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। বর্তমানে তাদের অধীনেই তদন্ত চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট আরও ছয় মাস সময় দেয়।
এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে আটজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে তানভীর রহমান খান ও পলাশ রুদ্র পাল জামিনে রয়েছেন। পলাশ জামিনের পর থেকে পলাতক। অন্য ছয়জন বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এস
