বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
এদিকে, মামলায় মারুফ (১৬) নামে এক আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আরিফ মিয়া (১৯), হাসান রাকিব (২০) এবং আবু সাইম (১৮)।
পৃথক দুটি আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী।
এ সময় তিনি রায়ে বিচারকের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, ‘ঘটনার দিন কংশ নদীর তীরের নির্জন কলাবাগানে পালাক্রমে ধর্ষণ করে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য নদীর তলায় মাটির নিচে মাথা পুতে রাখা হয়। যা আসামিরা ঠাণ্ডা মস্তিষ্কে করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।’
মামলায় আসামি পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার বদরুল আলম এবং আসামি পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন।
এছাড়া মামলায় অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান।
নিছামনির বাবা-মা ও স্বজনরা এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।
তিনি বলেন, পুলিশ জোর করে আসামিদের জবানবন্দি নিয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৫ জুন নিছামনির বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশের অভিযানে চার আসামি গ্রেপ্তার হলে তারা ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
এরই মাঝে মামলার মাত্র নয়দিনের মাথায় ২৩ জুন চার আসামির নামে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। এরপর টানা কয়েক দিন ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় এ রায় ঘোষণা করা হলো।
এস