পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের ৫তলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে বাসায় এক লোককে দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা বেগম রানী বাইর থেকে গেট বন্ধ করে দেন। এতে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদার ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে। পরে ওই নারী আশাপাশের লোকজনকে খবর দিলে তারা বাসায় ঢুকে নিহতদের রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। অভিযুক্ত ঘাতক বাসার ছাদে উঠে পার্শ্ববর্তী বাসার ছাদে গিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় জনগণ জড়ো হয়ে তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে সে মারা যায়। প্রায় দেড় বছর ঘাতক যুবক একই ভবনের ৫তলায় ভাড়া থাকতেন। প্রায় ৮ মাস আগে তিনি এ বাসা ছেড়ে চলে যান। অন্তর জানতেন বাসা ভাড়ার টাকা সবাই শাহিনুরের কাছে জমা দেয় এবং তার কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। তাই ডাকাতির উদ্দেশেই অন্তর ঘটনাটি ঘটাতে পারেন বলে ধারনা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের।
নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, আমার বোনের স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুট করতেই সে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনাটির মূল ঘটনা উদঘাটনসহ অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা বের করার দাবি জানাচ্ছি।
বাদী জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলে, ঘটনাটি টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশেও হতে পারে। কারণ বাড়িওয়ালা না থাকলে আম্মুর কাছে সবাই ভাড়া দিতো। পরে বাড়িওয়ালা নিয়ে যেতেন। এ ছাড়া, বাসার দায়িত্বে ছিলেন আম্মু। বাসা ছেড়ে এখান থেকে যাওয়ার পর অন্তরকে আর কখনো আসতে দেখিনি।
রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, একটি লোকের দ্বারা চারজনকে খুন করা সম্ভব কি না, এটা নিয়ে আমরা সবাই ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। খুনের সঙ্গে আর কেউ আছে কি না বা কি কারণে করা হয়েছে, আশা করি তদন্ত শেষে প্রশাসন আমাদেরকে জানাবে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত শাহীনুরের ছেলে সিফাত বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এমএম