বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন সকাল সোয়া ৭টার দিকে প্রিজনভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আনা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের হাজতখানায় নিয়ে যান। শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কোন কারাগারে রাখা হবে, তা নির্ধারণ করবে কারা কর্তৃপক্ষ।

ট্রাইব্যুনাল গুমের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২০ নভেম্বর এবং রামপুরায় সংঘটিত গণহত্যা মামলার শুনানির তারিখ ৫ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে।
হেফাজতে নেওয়া সেনা কর্মকর্তারা হলেন—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, মেজর জেনারেল মোস্তফা সরোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, কর্নেল মশিউল রহমান জুয়েল, লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহম্মেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, লে. কর্নেল মখচুরুল হক (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার এবং কর্নেল কেএম আজাদ।
গতকাল (২১ অক্টোবর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের হাজিরের দিন নির্ধারিত ছিল আজ। কেউ হাজির না হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতো। হাজির হওয়ার পর আদালত জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের শাসনামলে র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। গত ৮ অক্টোবর অভিযোগ জমা দেওয়ার পর শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং আজকের মধ্যে হাজিরের নির্দেশ দেন।
একই দিনে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা ‘আয়নাঘর’-এ গুমের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তারিক রহমানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ গঠন করা হয়। পাশাপাশি, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকালে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লে. কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়।
সবমিলিয়ে তিনটি মামলায় ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। সেনা সদর দপ্তরের তথ্যমতে, গত ৯ অক্টোবর ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর ট্রাইব্যুনালে শুনানি শুরু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানি পরিচালনা করেন। পরে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরুর আবেদন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও হাজিরের নির্দেশ প্রদান করে।
এনএইচ