শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর ডিবি।

ডিবি কর্তৃক এ এম হাসান নাসিমের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি চিফ) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত গুলশান থানায় করা একটি মামলায় নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হাসান নাসিমের গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা এলাকায়। তিনি পেশাগতভাবে একজন কনসালটেন্ট হিসেবে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণসহ বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা দিতেন। পাশাপাশি তিনি ‘পাথরঘাটা ডট কম’ নামক একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন হিসেবে স্থানীয় সমস্যা ও অসঙ্গতি নিয়ে লেখালেখি করতেন। স্বজনদের ধারণা, এলাকার বিভিন্ন অসঙ্গতি এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরব হওয়ার কারণেই তিনি প্রশাসনের নজরে পড়েন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ ও ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে গতকাল (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ডিবি রমনা জোনের এডিসি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আগারগাঁওয়ের জোড়া বিল্ডিং রোড এলাকায় হাসান নাসিমের বাসায় হঠাৎ তল্লাশি চালায়। কোনো সুনির্দিষ্ট ওয়ারেন্ট বা আইনি কাগজপত্র ছাড়াই তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় বাসায় তার তিন বছর বয়সী ছোট কন্যা সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাতে ডিবি জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য এবং রাষ্ট্রবিরোধী গুজব ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নাসিমকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে রাতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সকালে গুলশান থানায় করা সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত একটি মামলায় নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর এ এম হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ফেসবুকে। এটাকে বাক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ হিসেবে দেখছে তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে সরকারবিরোধীতাকে রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে বের হতে হবে বলেও উল্লেখ করেছেন ফেসবুক এক্টিভিস্টরা।

ফ্যাসিবাদ আমলে বেগম খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এ এম হাসান নাসিম। এমনকি বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন তিনি।

এনএইচ