বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষীর সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী সাক্ষী ট্রাইব্যুনালেও উপস্থিত হন। তবে একই সময়ে অন্য একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ থাকায় সময়ের আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১২ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে সময়ের আবেদন করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, তাসমিরুল ইসলাম, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলায় নবম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী। তার ভাই সৈকত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

মামলায় বর্তমানে চার আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক এবং যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি।

অন্যদিকে, নানক-তাপসসহ বাকি আসামিদের অধিকাংশই পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।

এর আগে ১০ মে তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২৮ আসামির বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নৃশংসতা চালান। আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহামুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন।

এস