সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিদের মধ্যে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ আরও অনেকে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন।
এ মামলায় বর্তমানে নয় আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অপর আসামিরা হলেন-
ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর (তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু (সাবেক প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), হাসানুল হক ইনু (তৎকালীন তথ্য মন্ত্রী ও ১৪ দলীয় জোট নেতা), শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক (সাবেক খাদ্যমন্ত্রী), মো. মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী (অ্যাডভোকেট), আ.ফ. ম. বাহাউদ্দিন (নাছিম), লতিফ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি (সাবেক মন্ত্রী), মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী), ওমর ফারুক চৌধুরী (তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান), সালাউদ্দিন মাহমুদ ও এসএম জাহিদ (সাবেক সংসদ সদস্য Manikganj-১ আসন ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলাদেশ যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি), ডা. ইমরান এইচ সরকার (আহ্বায়ক ও মুখপাত্র, গণজাগরণ মঞ্চ), শাহরিয়ার কবির (সভাপতি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি), মোজাম্মেল হক বাবু (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ৭১ টিভি), ফারজানা রূপা (সাংবাদিক, ৭১ টিভি), হাসান মাহমুদ খন্দকার (সাবেক আইজিপি), এ কে এম শহীদুল হক (সাবেক আইজিপি ও তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন ও অপারেশন্স), ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী (সাবেক আইজিপি ও তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি, এসবি), বেনজীর আহমেদ (সাবেক আইজিপি ও তৎকালীন কমিশনার, ডিএমপি), মো. মোখলেছুর রহমান (তৎকালীন মহাপরিচালক, র্যাব), জেনারেল আজিজ আহমেদ (সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন ডিজি, বিজিবি), জিয়াউল আহসান (সাবেক মেজর জেনারেল, এনটিএমসি প্রধান ও তৎকালীন পরিচালক ইন্টেলিজেন্স, র্যাব), লে. জেনারেল মো. মজিবুর রহমান (তৎকালীন এডিজি (অপস), র্যাব), মোহা. আব্দুল জলিল মন্ডল (সাবেক ডিআইজি, তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি), শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান (সাবেক অ্যাডিশনাল আইজি ও তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ডিবি, ডিএমপি), মাহবুব হোসেন (সাবেক অ্যাডিশনাল আইজি, এসবি ও তৎকালীন অ্যাডিশনাল ডিআইজি (পলিটিক্যাল), এসবি, মো. মনিরুল ইসলাম (সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও তৎকালীন জয়েন্ট কমিশনার, ডিবি, ডিএমপি), মো. আনোয়ার হোসেন (অ্যাডিশনাল আইজি ও তৎকালীন ডিসি, সদর দপ্তর ও প্রশাসন, ডিএমপি), মহা. আশরাফুজ্জামান (ডিআইজি ও তৎকালীন ডিসি, ট্রাফিক-দক্ষিণ, ডিএমপি), এস এম মেহেদী হাসান (অতিঃ ডিআইজি ও তৎকালীন এডিসি, মতিঝিল জোন, ডিএমপি), মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ (সাবেক ডিআইজি ও তৎকালীন ডিসি, লালবাগ বিভাগ, ডিএমপি), বিপ্লব কুমার সরকার (সাবেক ডিআইজি ও তৎকালীন ডিসি, তেজগাঁও বিভাগ, ডিএমপি), সৈয়দ নুরুল ইসলাম (সাবেক ডিআইজি ও তৎকালীন পুলিশ সুপার, নারায়ণগঞ্জ), মো. আসাদুজ্জামান (পুলিশ সুপার ও তৎকালীন এডিসি, মতিঝিল বিভাগ, ডিএমপি), এস.এম. শিবলী নোমান (অতি. পুলিশ সুপার (অবঃ) ও তৎকালীন এসি, রমনা জোন, ডিএমপি), বি এম ফরমান আলী (পুলিশ পরিদর্শক নিরস্ত্র ও তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ, মতিঝিল থানা, ডিএমপি)।
এর আগে চিফ প্রসিকিউটর জানান, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ জনের নিহতের প্রমাণ পেয়েছে প্রসিকিউশন। ২০১৩ সালে ৫ মে দিনভর হেফাজতের সমাবেশ শেষে রাতে শাপলা চত্বরে জমায়েতে নৃশংস হামলা চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ৫ আগস্টের পর এ ঘটনার তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম।
এস