রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রসঙ্গেও মত দিয়েছেন এই আইনজীবী। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অন্তত ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শিশির মনির।

প্রস্তাবিত গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে তিনি বলেন, সরকার আরও উন্নত একটি আইন করার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যে খসড়াটি দেওয়া হয়েছে, সেটিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে সরে আসার বিষয়টি দেখা যাচ্ছে। আগের অধ্যাদেশে ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এর উল্লেখ থাকলেও নতুন খসড়ায় সেসবের কোনো রেফারেন্স নেই।

গুমের তদন্ত পুলিশের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শিশির মনির বলেন, গুম বা জোরপূর্বক নিখোঁজের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় কোথাও পুলিশ, কোথাও র‍্যাব কিংবা ডিজিএফআইয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ওই অপরাধের তদন্তভার আবার পুলিশের কাছেই দেওয়া হলে তা কার্যকর তদন্তের সুযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

তার ভাষায়, পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত যদি পুলিশের কাছেই দেওয়া হয়, তাহলে বাস্তবে সেটিকে তদন্ত না করারই শামিল বলা যায়।

গুমের তথ্যভাণ্ডার তৈরির বিষয়েও আপত্তি জানান শিশির মনির। তিনি বলেন, আগের আইনে গুমসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে সেই দায়িত্ব সরকারকে দেওয়া হচ্ছে। তার প্রশ্ন, বাংলাদেশে কত মানুষ গুম হয়েছেন—সরকার কি সেই তথ্য প্রকাশ করতে আগ্রহী? দায়িত্বে থাকা কোনো সরকার সাধারণত এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

৭০ অনুচ্ছেদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের আওতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, নির্বাচন অর্থ হচ্ছে ভোটারদের সামনে একাধিক বিকল্প থাকা- কাকে ভোট দেবেন আর কাকে দেবেন না, সেই সুযোগ থাকা। যদিও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না এবং এমনটি করলে তাদের সদস্যপদ হারানোর বিধান রয়েছে, তারপরও রাষ্ট্রপতি যেহেতু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন, তাই সেখানে অন্তত ন্যূনতম প্রতিযোগিতা থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই চার্টারে ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। তবে জুলাই সনদ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ভবিষ্যতে সংবিধান সংস্কারের যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, সেখানে ৭০ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধান থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এটি ভালো কিছুর সূচনা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়টি সম্পন্ন হওয়া উচিত।

বর্তমান সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যেসব সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেননি কিংবা যাদের সদস্যপদ বাতিল হয়নি, তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। আর সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে কেউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে নিয়ম অনুযায়ী তার সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করতে হবে।

এস