শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটনের হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অশোক চৌহান।
ভুক্তভোগী মো. শাখেরুল ইসলাম (৫৫) হারাগাছ থানার ধুমেরকুঠি জয়বাংলা বাজার এলাকার মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন তার ছোট ভাই মো. নজরুল ইসলাম, বড় ভাই মো. শাহেদুল ইসলাম, মো. মশিয়ার রহমান, ভাতিজা মো. সোহাগ মিয়া এবং কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুজ্জামান (রিশাদ)। ভুক্তভোগীর দাবি, ভাতিজা এসিল্যান্ড হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আজিম উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার সন্তানেরা ওয়ারিশ হিসেবে পৈত্রিক সম্পত্তির মালিক হন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিশেষ করে রাস্তার পাশের মূল্যবান জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী শাখেরুল ইসলামের দাবি, তিনি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তাকে রাস্তা থেকে দূরের জমিতে বাড়ি করতে চাপ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা পারিবারিক বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এরই জেরে গত ১৭ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বহিরাগত কয়েকজনকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ তার বাড়িতে প্রবেশ করে মারধর করেন। এ সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে তার জমিতে থাকা একটি টিনের চালা ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শাখেরুল ইসলামের অভিযোগ, হামলার পেছনে তার বড় ভাই শাহেদুল ইসলাম, মশিয়ার রহমান ও ভাতিজা সোহাগ মিয়ারও ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া এই হামলার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন তার ভাতিজা, নাগেশ্বরীতে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুজ্জামান (রিশাদ)। তাকে ফোন করে হুমকি দিয়ে এসিল্যান্ড ভাতিজা বলেছেন, "আপনাকে এই গ্রামে থাকতে দেওয়া হবে না।" এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
ভুক্তভোগী মো. শাখেরুল ইসলাম বলেন, "আমি আমার ন্যায্য পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার চাই। কিন্তু আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও আমি উদ্বিগ্ন। ভাতিজা বদরুজ্জামান রিশাদ এসিল্যান্ড হওয়ায় থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছি না। প্রশাসনসহ সবাই ওদের পক্ষ নিয়েছে।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুজ্জামান (রিশাদ) বলেন, "আমি শাখেরুল ইসলামের ভাতিজা। দাদা জীবিত থাকাকালেই সাত ছেলের জন্য মৌখিকভাবে জমি ভাগ করে দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য তিন শতক করে বসতভিটার স্থান নির্ধারণ করা হয় এবং অধিকাংশ ভাই ওই স্থানেই বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। কেবল আমার চাচা চাকরিসূত্রে রংপুরে বসবাস করায় নির্ধারিত প্লটটি দীর্ঘদিন খালি রয়েছে। শাখেরুল ইসলাম ওই খালি প্লটটি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে গাছ লাগানো ও বেড়া নির্মাণ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার চাচা নিজের নির্ধারিত প্লট থেকে ওই বেড়া সরিয়ে দেন। এটি নিজের জমির দখল পুনরুদ্ধারের বিষয় ছিল। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কিছু বাকবিতণ্ডা হয়েছে, তবে হামলা বা সন্ত্রাসী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।"
নিজের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার জন্য আমি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তবে সংশ্লিষ্ট চাচা কোনো সমঝোতায় রাজি হননি। আমি তাকে বলেছি, পারিবারিকভাবে সমাধান সম্ভব না হলে আদালতে বণ্টননামার মামলা করে আইনি রায় অনুযায়ী বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হবে। আইনবহির্ভূত কোনো পদক্ষেপের সুযোগ নেই।"
তিনি আরও বলেন, "আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো বিরোধে কখনো আমার পদমর্যাদা ব্যবহার করিনি। আমার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগকারী চাচার সঙ্গে আমার কোনো টেলিফোনে কথোপকথন হয়নি। প্রয়োজনে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানাই।"
হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, "এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব। অভিযোগটি তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত থেকে তদন্তের আদেশ পেলেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এসিল্যান্ড বদরুজ্জামান (রিশাদ)-এর প্রশাসনিক ক্ষমতার কারণে প্রশাসনের কাছে ন্যায্য বিচার পাচ্ছেন না—ভুক্তভোগীর এমন অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, "আইন সবার জন্য সমান। আমরা নিরপেক্ষ থেকেই কাজ করছি। আদালতের আদেশ পেলেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে ওই পরিবারের বিরোধ দীর্ঘদিনের। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
এনএইচ