ষাটোর্ধ্ব শামসুন নাহার ও জাহানারা বেগম, তিন দশক ধরে ছিলেন প্রতিবেশী। নদী ভাঙনে দু’জনেই ভিটেমাটি হারিয়ে এখন পাশাপাশি একটি ছোট টং ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মতো আরও শতাধিক পরিবার জানেন না—কোথায় হবে পরবর্তী গন্তব্য।
এক সময়ের শস্যভাণ্ডারখ্যাত মাঝেরচর গ্রামের চার-পঞ্চমাংশ ইতোমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়েছে। বাকি অংশও রয়েছে হুমকির মুখে। গত আট মাসে ৬টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্যে ৫টি নদীগর্ভে চলে গেছে। বিলীন হয়েছে মাটির কিল্লা, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ, কমিউনিটি ক্লিনিক, শত শত বসতভিটা ও কয়েক কিলোমিটার ফসলি জমি।
স্কুলভবন হারিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে সাইক্লোন শেল্টারে। ভেঙে যাওয়া ক্লিনিকের কার্যক্রম চলছে একটি মাটির কিল্লার ভেতরে। স্থানীয়রা বলছেন, চোখের সামনে ফসলি জমি নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে, অথচ চর রক্ষায় কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
বাসিন্দা মেহের নেগার বলেন, “এক রাইতে নদী ঘরবাড়ি সব লইয়া গেছে। কিছুই বাঁচাতে পারিনাই।” একইভাবে জেলে আবু তাহেরের স্ত্রী জাহানারা বেগম জানান, এখন খোলা আকাশের নিচে আছি, ঘর করার টাকা-পয়সা নাই।
বারইপুর গ্রামের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের ভেতরে অর্ধশতাধিক পরিবার টিনের টং ঘরে দিন কাটাচ্ছেন। তবে নদী থেকে কেন্দ্রটির দূরত্ব মাত্র শত মিটার। যেকোনো সময় এটিও বিলীন হতে পারে।
স্থানীয় কৃষক স্বপন ও হাসেম বলেন, আগে এখানে ক্যাপসিকামসহ নানা ফসলের বাম্পার ফলন হতো। এখন জমি নেই, আয়ের পথ বন্ধ।
বাসিন্দারা দ্রুত নদী রক্ষায় জিওব্যাগ বা সিসি ব্লক বসানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ পুরো গ্রাম বিলীন হওয়ার পথে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবাহ বেড়েছে। আমরা পরিস্থিতি অবগত আছি। মাঝেরচরে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং নতুন প্রকল্পের জন্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ চলছে। বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন রোধ সম্ভব হবে।
এনএইচ