শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে প্রায় দেড় মাস ধরে অবস্থান করছিলেন ওই বিদেশি নাগরিকরা। বাড়িটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী। সম্প্রতি সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
অভিযানে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ ছাড়াও একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ডও পাওয়া গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই বাড়িতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণাসহ অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছিল। উদ্ধার করা ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে অনলাইন যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন, ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেশি-বিদেশি কয়েকজন সহযোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তারা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ ও অর্থ লেনদেনে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক কীভাবে একই বাড়িতে ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন অবস্থান করছিলেন এবং তাদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বাড়ির মালিক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা অবগত ছিলেন—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির কর্মকাণ্ড এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।
এস
