শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সকালে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজের স্থান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মার ভাঙন ও বর্ষায় প্লাবনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে ভুগছে এ অঞ্চলের মানুষ। নদী ভাঙতে ভাঙতে হাবাসপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমির কাছে চলে এসেছে।
তার মতে, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ হলে শুধু নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমবে না, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটও অনেকটা দূর হবে। একই সঙ্গে কৃষি, নৌযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পানির সংকট ও নদীভাঙনের শিকার। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদী, খাল ও বিলের পানিপ্রবাহ বাড়াতে হবে।
গঙ্গা চুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা ও অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি পানি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কারিগরি সমীক্ষা ও ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে বলে জানান পানিসম্পদমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সাত বছরের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যারাজে নেভিগেশন লক ও একাধিক গেট থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি দুই ধাপে প্রায় ১১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি নৌযোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। নদীভাঙন, বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমের পানির সংকট মোকাবিলাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, পদ্মার পাড়ের মানুষ বছরের পর বছর প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছেন। এই ব্যারাজ নির্মাণ হলে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা চেয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, কাজ শুরু হলে সাময়িক কিছু সমস্যা হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাবেন সাধারণ মানুষ।
এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দ্রুত দৃশ্যমান করা সম্ভব হবে।
এস
