থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিনের টানা অতিবৃষ্টিতে সাঙ্গু নদী ও আশপাশের পাহাড়ি ছড়া-খাল এবং ঝরনার পানি আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পর্যটন স্পটে শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েন। তবে মঙ্গলবার থেকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। লামা-আলীকদম সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের গ্রীনপিক রিসোর্ট এলাকায় পাহাড়ধসে ৩৩ কেভি বিদ্যুতের খুঁটি সড়কে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সোমবার রাত থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন স্পটে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এতে হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘১০ জুলাই পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর অনেক পর্যটক বুকিংয়ের তারিখ পরিবর্তন না করে সরাসরি অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। এতে জেলার হোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।’

তিন্দু ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মংপ্রু অং মারমা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তার শিলাগিরি রিসোর্টে আশ্রয় নেওয়া ৭০ জন পর্যটকের জন্য বিনামূল্যে থাকার এবং স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তারা সবাই মঙ্গলবার দুপুরে নিরাপদে থানচি সদরে ফিরে গেছেন।
বান্দরবান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতিভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, ‘মাতামুহুরি নদীর পানি কমে যাওয়ায় লামা-আলীকদম সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আলীকদম বাসস্টেশন এলাকার রানু সর্দারপাড়ায় গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি পরিবারকে তিন বান্ডিল ঢেউটিন, শুকনা খাবার এবং চাল-ডাল দেওয়া হয়েছে।’
থানচি ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, ‘রেমাক্রী এলাকায় আটকে পড়া ৭০ জন পর্যটককে লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করে নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অমিয়াখুম থেকে ফিরতে থাকা ১৮ জন পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইড দলের সদস্যরা পদ্মমুখ এলাকায় অবস্থান করছেন।’
বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। জেলার ২২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা সদরসহ রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।’
এমএম