logo
Search

সারাদেশ

মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য তাসনিম রিফাতকে মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।

জেলা প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।

তাসনিম রিফাতের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহী সেনানিবাসে নেওয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ পৌঁছে দেওয়া হয় তার জন্মস্থান বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো তাসনিমকে দেখতে বাড়িতে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও আশপাশের গ্রামের অসংখ্য মানুষ। মুহূর্তেই শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয় পুরো এলাকায়।

পরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাসনিম রিফাতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও হাজারো গ্রামবাসী অংশ নেন। জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাসনিমের মরদেহ নেওয়া হয় পারিবারিক কবরস্থানে। সেখানেই তিন বছর আগে মারা যাওয়া মায়ের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

তাসনিম রিফাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য ছিলেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনুশীলনের একপর্যায়ে ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হলে তাসনিম রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন।

মাত্র ২৮ বছর বয়সে তাসনিমের এমন মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ তার পরিবার। তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার মা। এবার একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন বাবা আসাদুল ইসলাম। ছেলের মৃত্যুতে তার আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো গ্রামে।

তাসনিম রিফাত স্ত্রী ও প্রায় আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী এবং বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ ও শোকে কাতর স্বজনরা।

একজন সেনাসদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাসনিম রিফাতের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের কবরের পাশে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তার জীবনের শেষ যাত্রা।

এস