শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জয়কালীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রামবাসী ও ‘খাদেমুল ইসলাম মানবকল্যাণ সংগঠন’-এর যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন।

মানববন্ধনে নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম ফাজিল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে তার স্বামী পরকীয়ার জেরে হত্যা করেছে। এর আগেও স্বামীর অনৈতিক সম্পর্কের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করেছিলাম।

পরে পারিবারিক সমঝোতায় তা নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু সেই বিরোধের জের ধরেই আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফারজানা আত্মহত্যা করেনি; তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রশাসন ও সরকারের কাছে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভুঁইঘর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

নিহত ফারজানা ইসলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অপরদিকে তার স্বামী নাজমুল ইসলাম একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী, তার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়।

তবে বিয়ের পর নাজমুলের পরকীয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ চলছিল।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবী ছাত্রীর এমন মর্মান্তিক ও রহস্যজনক পরিণতি মেনে নেওয়া যায় না। ফারজানার মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন আসামি বা প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়—সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা।

এমএম