শনিবার সকাল ১১টায় লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লালমোহন উপজেলা নাগরিক সমাজের আয়োজনে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল।
মেজর হাফিজ বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করতেন যে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তার দাবি, শেখ হাসিনা নিজেই জানতেন গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আচরণ ও অভিনয়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীর অভিনয় করেছেন। সে সময় জনগণ বিষয়টি বুঝতে না পারলেও এখন সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে যে শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ এবং তিনিই গুমের নির্দেশদাতা ছিলেন।
মেজর হাফিজ বলেন, একজন ব্যারিস্টারকে আট বছর হাতকড়া পরিয়ে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তার সঙ্গে কতটা নির্মম ও জঘন্য আচরণ করা হয়েছে, তা তুলে ধরেন তিনি। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি মুক্ত হয়ে বর্তমানে সংসদ সদস্য হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিগত সরকারের আমলের কথিত লুটপাটের প্রসঙ্গ তুলে মেজর হাফিজ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং একটি পর্দার দাম ৪২ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, তৎকালীন একজন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে। তার অভিযোগ, সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে মেজর হাফিজ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এখানকার স্থানীয় সংসদ সদস্য ছিলেন একজন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি’।
তিনি দাবি করেন, ২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনের বেলায় তাঁর নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল।
মেজর হাফিজ আরও বলেন, ওই সময় তার নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক এবং ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছিল। তিনি হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গেলেও হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারেননি বলে দাবি করেন।
মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে জানতে চান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তারা সন্তুষ্ট কি না।
এ সময় সংসদীয় পদ্ধতির আদলে উপস্থিত মানুষের মতামত জানতে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নেওয়া হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের করতালির মধ্য দিয়ে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এমএম
