শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়া সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবহেলিত ও বঞ্চিত। এ শহর ও অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও দাবিগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে। বগুড়াকে আর অবহেলিত-বঞ্চিত করে রাখা যাবে না। উন্নয়নের ক্ষেত্রে জেলার যেসব ন্যায্য দাবি রয়েছে, সেসব দাবি তারা করবেন।
দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এ সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে বিষয়টি বারবার তুলে ধরা হলেও সংকটের সমাধান হয়নি। এ কারণে তারা রাজপথে নেমেছেন। তার মতে, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে শুধু আলোচনা নয়, সংকট মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব অর্থনীতিতেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষ কর্মহীন হচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সংকটের দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের তার নিয়ে মন্ত্রীর যে ধরনের অবান্তর কথাবার্তা রয়েছে, তা দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গেও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের বিপ্লবের পর দেশের জনগণ আমূল সংস্কার চেয়েছিল। সংস্কারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছে। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। একটি জাতির জন্য এ সময় কম নয়। দীর্ঘ এই সময়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে মালয়েশিয়ার অগ্রগতির তুলনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একই সময়ে মালয়েশিয়া বিশ্বে নিজেদের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সঠিক পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশও এগিয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বগুড়ার প্রসঙ্গে তিনি আবারও বলেন, জেলার উন্নয়নের জন্য যেসব ন্যায্য দাবি রয়েছে, সেগুলো তারা তুলে ধরবেন। দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত এই অঞ্চলের মানুষ যাতে তাদের প্রাপ্য অধিকার ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের সমস্যা ও সংকটের কথা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরা উচিত। মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমানো এবং অর্থনীতিকে সচল রাখতে সরকারকে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের যেখানেই অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই তারা কথা বলবেন। জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সংসদের ভেতরে যেমন বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে, তেমনি প্রয়োজনে রাজপথেও অবস্থান নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি দেশের উন্নয়ন, সংস্কার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এবং বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবর্তন ও কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বগুড়ার দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা, দেশের জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো নতুন করে সামনে এসেছে। তিনি এসব সংকট সমাধানে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং জনগণের স্বার্থে যেকোনো অসংগতির বিরুদ্ধে কথা বলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এমএম
