রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারাকান্দা-ধোবাউড়া সড়কের পশুহাসপাতালের সামনে বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া পথসভা চলে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। পরে দলের নেতারা পরবর্তী পথসভায় যোগ দিতে ভালুকার উদ্দেশে রওনা হন।
পথসভায় সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গুম, হত্যা এবং ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভারত ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং) সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ এসব কাজ করেছে।
এখন আবার আলেম সমাজকে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক দল আলেমদের এভাবে ‘ট্যাগিং’ করার চেষ্টা করলে জনগণকে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।
গতকাল কক্সবাজারে ছাত্রলীগের কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, আমরা দেখলাম এই রক্তোত্থানের পরে গতকালকে কক্সবাজার জেলায় ওপেনলি ছাত্রলীগের সবচেয়ে বড় মিটিং হয়েছে। আমরা মনে করি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ইচ্ছা ছাড়া, আশ্রয় ছাড়া, পুলিশ এবং প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া, বিএনপির মদদ ছাড়া ছাত্রলীগের এই ধরনের মিটিং কোনদিন সম্ভব না। বিএনপি এবং সালাহউদ্দিন এখন নতুন প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে। তারা যখন দেখছে বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এনসিপির মতো জুলাই থেকে উঠে আসা তরুণরা জুলাইয়ের বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়। তখন তারা আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার এই পরিকল্পনা শুরু করেছে।
তিনি বলেন, আমরা সালাহউদ্দিন আহমেদকে, তারেক রহমানকে, বিএনপিকে শুধু একটা কথা বলতে চাই, যারা নির্দোষ ছিল তাদের বিষয় ভিন্ন। কিন্তু যারা অপরাধী এবং এই নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ তাদেরকে ফিরিয়ে আনার বন্দোবস্ত যদি আপনারা করেন তাহলে আওয়ামী লীগ যে পথে গিয়েছে, যেভাবে বদল হয়েছে, আপনাদের পরিণতি তার চেয়েও খারাপ হবে। সালাহউদ্দিন আহমেদকে ব্যাখ্যা দিতে হবে যে, কিভাবে তার জেলা কক্সবাজারের উখিয়াতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড হয়।
বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, মুখে নিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মতো রাষ্ট্র পরিচালনা করলে একই পরিণতি হবে।
গণভোট নিয়ে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, জনগণের রায়কে অবমূল্যায়ণ করা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি।
পথসভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। সেই লক্ষ্য পূরণে আওয়ামী লীগের বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে এবং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশার পরিবর্তে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিই বহাল রাখা হয়েছে। বিচার ও সংস্কারের প্রশ্নে এনসিপি কোনো আপস করবে না। জনগণের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত এলে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্যের বিএনপি কর্মীর চোখ উপড়ে ফেলার হুমকির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গতকালকে আমি একটা নিউজ পড়ার সময় দেখলাম, এই মুফতি সাহেবের নাকি চোখ উপড়ে ফেলা হবে। আমাদের অনেক ভাইয়ের চোখ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তারা এখন হাসপাতালে আছে। শেখ হাসিনার গুন্ডা বাহিনী তাদের চোখ তুলে নিয়েছিল। এখন কোন সন্ত্রাসী আবার নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছে যে, দিন দুপুরে মানুষকে ধমক দিচ্ছে, চোখ উপড়ে ফেলা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন এমন ব্যক্তিদেরই জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা উচিত।
তিনি তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের পক্ষে ভোট চান। নির্বাচিত হওয়ার আগে বা পরে তিনি কোনো অনিয়মে জড়ালে দল তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি ।
ময়মনসিংহ মহানগর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফুয়াদ খানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ, ময়মনসিংহ জেলা আহ্বায়ক এটিএম মাহবুব আলম, সদস্যসচিব জসিম উদ্দিন, মহানগর সদস্যসচিব ইকরাম এলাহী খান, জাতীয় যুবশক্তির ময়মনসিংহের আহ্বায়ক ফয়সাল ফারনিম, জাতীয় ছাত্রশক্তি ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক আলী হোসেন প্রমুখ
এস