সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের মিরারচর-আকবরনগর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মাসুদ মিয়া কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের মিরারচর গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে অবস্থিত একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বাজারটির নাম নিজেদের গ্রামের নামে করার দাবি নিয়ে সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বাজারটির নাম ‘আকবরনগর-মিরারচর বাজার’ রাখা হয়। তবে সম্প্রতি আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দারা বাজারটির নাম শুধু ‘আকবরনগর’ করার দাবি জানান। অন্যদিকে মিরারচর গ্রামের বাসিন্দারা ‘মিরারচর-আকবরনগর’ নামে বাজারের নামকরণের দাবি করেন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জেরে সোমবার সকালে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা চালায়। এতে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়াসহ উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। পরে গুরুতর আহত মাসুদ মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, দুই গ্রামের সংঘর্ষের কারণে ভৈরব রেলস্টেশনে আটকা পড়েছে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেন। এতে যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ ইউসূফ জানান, আকবরনগর এলাকায় রেললাইনের ওপরে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনটি স্টেশনে ১ ঘণ্টা ধরে আটকা পড়েছে।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে মাসুদ মিয়া নামে একজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব একযোগে কাজ করছে।

এমএম