চিকিৎসা খরচ কমাতে ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা, হার্টের রিং ও চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিমাসের ওষুধ খরচা সাশ্রয় হবে।

বাজেটে শুল্কহার কমানোতে দাম কমতে পারে-কফি, হার্টের রিং; কিডনি ডায়ালাইসিস খরচ; দেশের উৎপাদিত ত্বক ফর্সাকারী প্রসাধনী সামগ্রী; সানস্ক্রিন বা স্যানট্যাগ সামগ্রী; হাত, নখ বা পায়ের প্রসাধনী সামগ্রী; পাউডার; লিপস্টিক; আইলাইনার; ইলেকট্রিক চার্জার; গার্মেন্টের ঝুট; ইলেকট্রিক কুকার; ইন্ডাকশন কুকার; ইনফ্রারেড কুকার; ওয়াটার পিউরিফায়ার; ওয়াটার হিটার/গিজার, পিয়ানো, ফ্লোট গ্লাস।

প্রতিবছর বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়াতে পণ্য ও সেবার করহার বাড়ানো হয়। এবারই তার ব্যতিক্রম। নতুন সরকার চাইছে করহার না বাড়িয়ে করজাল বাড়াতে। একই সঙ্গে জনগণকে স্বস্তি দিয়ে কর আদায় করতে। তাই ব্যাপক হারে ভ্যাট-ট্যাক্সে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, যা বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করবেন।

সাধারণ মানুষের সংসার খরচ কমাতে বাজেটে আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুত সামগ্রীর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে দেশের বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে।

রান্নার প্রধান উপকরণ মসলার ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এতে এলাচ, দারুচিনিসহ সব ধরনের মসলার দাম কমতে পারে। সিমকার্ড ও ই-সিমকার্ড সেবার বিপরীতে ৩০০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর ছিল। এর পরিবর্তে বাজেটে সিমকার্ডের দামের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এতে সিমের দাম কমতে পারে।

স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ২২টি উপকরণের অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করা হচ্ছে। এতে দেশে তৈরি মোবাইলের দাম কমতে পারে।

স্বর্ণালংকার বিক্রিতে ৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল, যা স্বর্ণালংকারের বিক্রীত মূল্যের ওপর আদায় করা হতো। বাজেটে ৫ শতাংশের পরিবর্তে ভরিপ্রতি আড়াই হাজার টাকা সুনির্দিষ্ট কর বসানো হয়েছে। এতে স্বর্ণালংকারের দাম কমবে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকাজে ব্যবহৃত জিংক সালফেট, ম্যাগনেশিয়াম সালফেটসহ পাঁচটি সারের ব্যবসা পর্যায়ে ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ কারণে সারের দাম কমতে পারে। কীটনাশক-বালাইনাশকের শুল্ককর প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

এছাড়া মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যে করছাড় দেওয়া হচ্ছে। যেমন-ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১ শতাংশ থেকে হ্রাস করে দশমিক ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এর ফলে বিগত বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তা থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।