বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতে একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ায়। গত মৌসুমে ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকরা প্রায় সব পেঁয়াজ বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে এই মুহূর্তে বাজারে মজুতদারদের আধিপত্য বাড়ছে, আর তারা ইচ্ছেমতো সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে দাম বাড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে ভারত থেকে আমদানি শুরু করতে সরকারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

পাবনার চাটমোহরের কৃষক বরকতউল্লাহ বলেন, মাঠে আমাদের নতুন পেঁয়াজ উঠতে আর বেশি দেরি নেই। প্রতি কেজিতে অন্তত ৪০ টাকার খরচ হয়েছে। এখন যদি আমদানি শুরু হয়, আমরা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হব। যেমন প্রতি বছর হয়—ব্যবসায়ীরা কম দামে কৃষকের কাছ থেকে কিনে মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রি করে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ এবং রামপুরার বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে—দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ৭০–৮০ টাকা, আর এক মাস আগে প্রায় ৬৫ টাকা। পাড়া-মহল্লার দোকানে দাম আরও বেশি—সর্বোচ্চ ১৪০ টাকা পর্যন্ত।

নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. সোলাইমান শাওন বলেন, প্রতি বছর একই নাটক। সরবরাহ সংকট নেই, তবুও দাম বাড়ে। সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোও কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

রাজধানীর পাইকারি শ্যামবাজারে বৃহস্পতিবার ৫ কেজির পাল্লা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫২৫–৫৫০ টাকায়—অর্থাৎ কেজিপ্রতি ১০৫–১১৫ টাকা। এক মাস আগেও ছিল ৫০–৫৫ টাকা।

ক্যাব-এর কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, আড়তদার ও দাদন ব্যবসায়ীরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। দেশীয় উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তারা আমদানি অনুমতি আদায়ের চেষ্টা করছে। এখন আমদানি হলে কৃষক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৫ লাখ টন, আর গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ৩৮ লাখ টনের মতো। তাছাড়া সংরক্ষণও ভালো হয়েছে। ফলে এখন আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমান বলেন, নতুন পেঁয়াজ শিগগিরই বাজারে আসবে। এখন আমদানি হলে কৃষক ন্যায্য দাম পাবেন না। বাজার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। ইতোমধ্যে আমদানির জন্য ২,৮০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছে। তবে অনুমতি না থাকায় সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। আইপি না পেয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী হাইকোর্টে রিট করেন, যার বেশিরভাগই খারিজ হয়ে গেছে।

এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা পাইকারি, আড়ত ও খুচরা—তিন স্তরে দাম বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করছে। প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনএইচ