বিক্রেতা ও পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজের পুরোনো মজুত এবার প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত কিংবা অন্য দেশ থেকে আমদানি না থাকায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা দামে চাপ পড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে ওঠার ঠিক আগের সময়—অক্টোবর ও নভেম্বর—প্রতি বছরই দামে বাড়তি চাপ থাকে।

এখন রাজধানীতে মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুরের ছোট আকারের দেশি পেঁয়াজ ১০০–১০৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর পাবনা অঞ্চলের উন্নত মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়—যা দুই সপ্তাহ আগেও ৭০–৯০ টাকার মধ্যে ছিল।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল, আগারগাঁও তালতলা এবং কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে—সব বাজারেই পেঁয়াজের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান। বিক্রেতারা বলছেন, অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ ঠিক থাকলেও নভেম্বরের শুরু থেকে মজুত সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে দাম দ্রুত বাড়ছে।

তাদের ধারণা, ডিসেম্বরের শুরুতে আগাম মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম স্বাভাবিক হতে পারে। নভেম্বরজুড়ে দামের ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক আবদুল মাজেদ জানান, বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ থাকায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাজার স্থিতিশীল করতে দ্রুত আমদানির অনুমতি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে পেঁয়াজের দাম ছিল ১৩০–১৫০ টাকা। অর্থাৎ এ বছর দাম বাড়লেও এখনো গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম।

অন্যদিকে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে সবজির দামে সামান্য স্বস্তি দেখা দিয়েছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০–৬০ টাকা, লাউ ৬০–৮০ টাকা, টমেটো ১২০–১৪০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, বেগুন ৮০–১২০ টাকা এবং করলা ৭০–৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম ও চালের বাজারেও স্বস্তির বাতাস। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১২০–১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ১৩০–১৪০ টাকা ছিল। ব্রয়লার মুরগি ১৭০–১৮০ টাকা, আর সোনালি মুরগি ২৭০–৩০০ টাকায় পাওয়া গেছে। ভারত থেকে চাল আমদানির কারণে স্বর্ণা ও পাইজাম চালের দামও কমেছে।

তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার সকালে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হলে ক্রেতার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল। এক সবজি বিক্রেতা জানান, দূরবর্তী এলাকার ক্রেতারা বাজারে আসেননি। মাংস বিক্রেতারাও নিশ্চিত করেছেন যে, দিনের বেচাবিক্রি ছিল স্পষ্টভাবে কম।

এনএইচ