মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সেগুনবাগিচা, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাজারে করলা প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, সাজনা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।
কাঁচামরিচের বাজারেও রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। দেশি শসা ১২০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা, পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাকের বাজারেও দাম বেড়েছে। লাল শাকের আঁটি ২৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতার কেজি ২২০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
মুরগির বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। সোনালি কক মুরগি ৩৪০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩১০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম রয়েছে ৭৫০ টাকা কেজি।
ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। চিংড়ি আকারভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং কই মাছ ২০০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীর মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে আলুর বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস ও ডিম প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আর বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনগুলোতে বাজারে দাম আরও বাড়তে পারে।
এনএইচ