উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মার্ক জ্যাফে এবং ইউএস স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর কেলি লফলার। তাদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ জোরদারে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

ইউএস স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর কেলি লফলার তার বক্তব্যে বলেন, যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি, ব্যবসার পরিধি বিস্তার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সংখ্যায় তুলনামূলক কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা ও ব্যবসা খাতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি ফজলুর রহমান খান, সালমান খান, জাওয়েদ করিম, ড. আবুল হুসাম, আবদুস সাত্তার খান, ড. এম. জাহিদ হাসান এবং সৈয়দ জাকি হোসাইনের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাফল্যের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোর একটি। পাশাপাশি বাংলাদেশও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য ও সেবার বাজার প্রসারিত করছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এই এক্সপো একটি কার্যকর সেতু হিসেবে কাজ করবে।

গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মার্ক জ্যাফে জানান, তাদের চেম্বার গত ২৫ বছর ধরে এই বিজনেস এক্সপো আয়োজন করে আসছে এবং গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এই মেলা বৃহৎ ও উদীয়মান ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করছে।

মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘বিজনেস-টু-বিজনেস’ (B2B) ম্যাচমেকিং। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সরাসরি সম্ভাব্য ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান। পাশাপাশি মেলায় অনুষ্ঠিত হয় ‘গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট, ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স অ্যান্ড রেমিট্যান্স ফোরাম ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনার। এতে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কৌশলগত সোর্সিং, গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ও এনআরবি (NRB) বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ প্রদান করা হয়। ব্যবসা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন— সৈয়দ জাকি হোসাইন, সমাজসেবী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মডার্ন প্যাকেজিং ইনক., নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র, লিয়াকত হোসাইন, প্রতিষ্ঠাতা, অ্যাডভান্স ফার্মাসিউটিক্যাল ইনক, যুক্তরাষ্ট্র, আবুবকর হানিফ, চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর, WUST এবং প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, PeopleNTech, কাজী হেলাল আহমেদ, প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (IFDC), যুক্তরাষ্ট্র, গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, GFB Group, যুক্তরাষ্ট্র, ড. আরিফুর রহমান, চেয়ারম্যান, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, ঢাকা, বাংলাদেশ তাদের এই সম্মাননা ব্যবসায়িক অগ্রগতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে তাদের অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ।

এমএম