শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার, মালিবাগ ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে—ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পাতিহাঁস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়।
বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির পাইকারি দাম কিছুটা কমেছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। তবে দেশি ও সোনালি মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আজমপুর বাজারের বিক্রেতা রফিক বলেন, “গত সপ্তাহে ব্রয়লারের পাইকারি দাম ছিল ১৮০ টাকার ওপরে, এখন তা নেমে এসেছে ১৫৫–১৬০ টাকায়। তাই খুচরায় ১৭০ টাকায় বিক্রি করছি। তবে খাবার ও পরিবহন খরচ না কমলে দাম আর নামবে না।”
খিলক্ষেত বাজারের বিক্রেতা এ আর রহমান বলেন, “দেশি আর সোনালি মুরগির দাম অনেক দিন ধরেই একই আছে। ক্রেতারা এখন তুলনামূলক সস্তা ব্রয়লারকেই বেছে নিচ্ছেন।”
ক্রেতারাও বলছেন, অতিরিক্ত দামের কারণে এখন ব্রয়লার মুরগিই একমাত্র ভরসা। ক্রেতা আজম খান বলেন, “ব্রয়লার ছাড়া অন্য মুরগির দাম এখন নাগালের বাইরে। একটা ছোট সোনালি মুরগিই ৩৫০ টাকা লাগে। সাধারণ মানুষ এখন শুধু ব্রয়লারেই টিকে আছে।”
অন্যদিকে মাছের বাজারেও তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে কেজিপ্রতি রুই ৩৫০–৪৫০ টাকা, কাতল ৪০০–৪৫০ টাকা, শিং ৫০০–৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা, কৈ ২০০–২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০–২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৫০–২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পরিবহন খরচ ও খামার পর্যায়ের দাম অপরিবর্তিত থাকায় বাজারমূল্য কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
মালিবাগ বাজারের ক্রেতা দেলোয়ার বলেন, “এখন তো ব্রয়লার আর পাঙাশের দাম প্রায় সমান। আগে মুরগি তুলনামূলক সস্তা ছিল, এখন দুটোই ১৭০–১৮০ টাকার মধ্যে।”
খুচরা বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০–৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,০০০–১,১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, পণ্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজার ব্যয় কমেনি—বরং মাসের শেষ দিকে এসে তাদের নিত্যপণ্য কেনাকাটায় অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
এনএইচ