গত ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। তবে সেই হুঁশিয়ারির পরও বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়, আর বড় ও বাছাইকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়েও তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ধলপুর বাজারের ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, “শ্যামবাজার থেকে আমরা পাইকারি দরে পেঁয়াজ কিনি। সেখানেই দাম বেশি। নতুন পেঁয়াজ বাজারে না এলে দাম কমবে না। তবে ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে দাম কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।”
শ্যামবাজারের তথ্য অনুযায়ী, গতকালের তুলনায় আজ পেঁয়াজের দাম মানভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। গতকাল ছোট সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৯৭-৯৮ টাকায়, আজ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১০৫ টাকায়। বড় পেঁয়াজের দামও বেড়ে ১১০ টাকায় পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে কয়েকটি মূল কারণ—১. উৎপাদন থেকে খুচরা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব, ২. সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, ৩. মৌসুমের শেষ পর্যায়, এবং ৪. বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি।
প্রতি বছরই মৌসুমের শেষ দিকে পেঁয়াজের দামে উল্লম্ফন দেখা যায়, বিশেষ করে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে। এবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আমদানি বন্ধ থাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় কম দামে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে বলে সেগুলো আমদানির আশায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দেশীয় বাজারে দাম বাড়াচ্ছে।
বর্তমানে দেশে আগের মৌসুমের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন মৌসুমের এক লাখ টন ও পরের মাসে আরও দুই লাখ টন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তাই বাস্তবে সরবরাহ সংকটের কোনো কারণ নেই।
ভারতে বর্তমানে পাইকারি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮ রুপিতে (প্রায় ১২ টাকা)। ফলে এখন আমদানি করলে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের লাভ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশীয় কৃষকরা। এ কারণে বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের যৌথ বৈঠকে আপাতত আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ৯ নভেম্বর সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “চলতি সপ্তাহের মধ্যে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দাম যদি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে, তাহলে আর আমদানি করা হবে না।”
তিনি জানান, বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির জন্য ২ হাজার ৮০০টি আবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে। এর মাত্র ১০ শতাংশ অনুমোদন দিলেও বাজারে দাম পড়ে যাবে, যা আমরা চাই না।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) জানিয়েছে, বাজারে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম যেখানে ৯০ টাকার মধ্যে থাকার কথা, সেখানে তা অনেক বেশি। পাশের দেশে একই পণ্য বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকার মধ্যে। তাই সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দ্রুত দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
এনএইচ