তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছে যে পরীক্ষা দিতে তাদের লেখাপড়াটা করতেই হবে। তারা ঠিকঠাক পড়ালেখা না করায় এবার পরীক্ষা দিচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেসকো আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঝরে পড়ার সংখ্যাটা এসএসসির পর এইচএসসি বা দাখিলের পর আলিমে... এটার একটা স্বাভাবিক গতি ছিল। অনেক মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়, অনেক ছেলেরা কাজে চলে যায়। এটার একটা সাধারণ মার্জিন (সীমা) সবসময় ছিল। এবার সেটা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। কারণ, শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছে যে পরীক্ষা দিতে হলে লেখাপড়া করতেই হবে। অনেকে এবার ঠিকঠাক প্রস্তুতি নিতে পারেনি বিধায় ফরম পূরণ করেনি, পরীক্ষায়ও বসেনি।
তিনি বলেন, তারপরও আমরা এটা নিয়ে ভাবছি, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। ক্লাসরুমে শিক্ষকরা যাতে ভালোভাবে পড়াতে পারেন, মনিটরিং করতে পারেন, সেই কাজটা আমরা বাড়িয়ে দেবো। সিলেবাস, কারিকুলাম ও সময়- সবকিছু আমরা সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেবো। যেন আগামী দিনে এমন ভয়াবহ হারে ড্রপ আউট (ঝরে পড়া) না ঘটে। এ ঝরে পড়াটা আমাদের কাছে লক্ষ্যণীয়। এটা নিয়ে আমরা কাজ করবো।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মোর্চা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করে ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৮৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩২ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তারা রেজিস্ট্রেশন করে। তবে তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন শিক্ষার্থী এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসছে না; শতাংশের হিসাবে যা ৩৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
দেশের সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, এসএসসি পাস করে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন করে ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ জন শিক্ষার্থী। এক বছর পর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে তাদের মধ্যে ফরম পূরণ করেছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন। আর নিয়মিত শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও ফরম পূরণ করেনি ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন। শতাংশের হিসাবে ফরম পূরণ না করা শিক্ষার্থীর হার ৩৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পাস করে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে আলিম শ্রেণিতে ভর্তি এবং রেজিস্ট্রেশন করে এক লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। তবে চলতি বছরের আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন। আর ফরম পূরণ করেনি ৬১ হাজার ৬৬০ জন। শতাংশের হিসাবে এ হার ৪৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
কারিগরি বোর্ডের অধীন ২০২৪ সালে এসএসসি পাস করে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশে ভর্তি হয়ে রেজিস্ট্রেশন করে এক লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন। তাদের মধ্যে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মাত্র ৭৫ হাজার ১৯৭ জন। আর ঝরে গেছেন ৯০ হাজার ৩৪৫ জন। কারিগরিতে রেজিস্ট্রেশন করা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
উদ্বেগজনক হারে ঝরে পড়া নিয়ে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বুধবার (১ জুলােই) জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঝরে পড়াটা নতুন নয়। কিন্তু দুশ্চিন্তার বিষয় হলো- ঝরে পড়ার হারটা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এটা হঠাৎ এবার এত বাড়লো কেন? আগামী বছরগুলোতেও কি এ ধারা অব্যাহত থাকবে? সরকারের পদক্ষেপটা কী?’
রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘আগে মেয়েরা ঝরে পড়তো। সামাজিক কারণ ছিল, অর্থনৈতিক কারণ ছিল। এখন মেয়েদের সঙ্গে সঙ্গে ছেলেদের ঝরে পড়াটাও উদ্বেগজনক। তারা কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে যাচ্ছে...অস্থির রাজনীতিতে জড়িয়ে ছাত্রজীবন হারিয়ে ফেলছে। এসব নিয়ে কথা বলার উপায়ও আবার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্থির হতে হবে, ভাবতে হবে এবং সমস্যা নিরসন করতে হবে। ওদের (ছাত্র-ছাত্রী) মনোজগতে স্থিরতা আনতে হবে। সরকার, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী সবাইকে সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এস