logo
Search

শিক্ষা

‘মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার সুযোগ নেই’

মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারার আধুনিক শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন না রেখে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও কর্মমুখী শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। একই সঙ্গে ইসলামি শিক্ষার মৌলিক আদর্শ অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও নৈতিক মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষাকে যুগোপযোগী, আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্য শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন শিক্ষাবিদরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এ সেমিনার আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। গেস্ট অব অনার হিসেবে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসানাত মোহা. শামীম উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার ফ্যাকাল্টি অব কুরআনিক অ্যান্ড সুন্নাহ স্টাডিজের সিনিয়র লেকচারার ড. তাজুল ইসলাম। তিনি মালয়েশিয়ার ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশ, আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মানবসম্পদ তৈরির বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও রূপান্তরের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

অধ্যাপক ড. আবুল হাসানাত মোহা. শামীম বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারার আধুনিক শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার সুযোগ নেই। ইসলামি জ্ঞানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান, ভাষা দক্ষতা এবং কর্মমুখী শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, আলিয়া ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেশের বৃহৎ শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পিত শিক্ষা সংস্কার অপরিহার্য। অন্য কোনো দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে বাংলাদেশের বাস্তবতা, সংস্কৃতি ও চাহিদার আলোকে নিজস্ব শিক্ষা মডেল গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করতে হবে। ইসলামি শিক্ষার মৌলিক আদর্শ অক্ষুণ্ন রেখে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষাকে আধুনিক বিশ্বের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার সঙ্গে সংযুক্ত করে একটি টেকসই ও কার্যকর শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাঠ্যক্রম, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হতে পারে। তবে দেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও প্রয়োজনের আলোকে একটি কৌশলগত সংস্কার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে ইসলামি শিক্ষাকে আরও কার্যকর, কর্মমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।

কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. হুসাইন আহমাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম, কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং অধিভুক্ত প্রায় ৫০টি মাদরাসার অধ্যক্ষ।

এমএম