সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হেমা চাকমা সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ঘোষণা এবং পাহাড়ের জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটির কাছে একটি প্রস্তাবনা জমা দেন। তবে এই প্রস্তাবনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সম্পূর্ণভাবে তার ব্যক্তিগত মতামত এবং এর সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা সর্বসম্মত সংশ্লিষ্টতা নেই।
প্রস্তাবনা নিয়ে যত বিতর্ক ও আপত্তি:
ব্যক্তিগত দায়ভার: স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই ধরনের প্রস্তাবনা ডাকসুর কোনো অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত নয়; এটি সম্পূর্ণ হেমা চাকমার ব্যক্তিগত প্রস্তাবনা এবং এর দায়ভার একান্তই তার নিজের।
সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা: সমালোচকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা কোনো বিশেষ আইনের মাধ্যমে পরিচালনার দাবি দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও একই আইন কার্যকর থাকা উচিত বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর অবস্থান জোরদার: দেশের নাগরিক ও সীমান্তবর্তী বা পাহাড়ি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা রোধে সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরালো করার দাবি তোলা হয়েছে। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।
‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির বিরোধিতা: পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর 'আদিবাসী' স্বীকৃতির দাবির বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, তারা ভিন্ন জাতিসত্তার হতে পারেন, তবে আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে তারা এ দেশেরই নাগরিক। পাহাড় ও সমতলের মেলবন্ধনেই বাংলাদেশ এবং এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়।
সমান অধিকারের দাবি: পাহাড়ে এবং সমতলে সকল নাগরিকের আবাসন ও সম্পত্তি কেনার সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একজন পাহাড়ি মানুষ যেমন সমতলে জায়গা কিনে বসবাস করতে পারেন, তেমনি সমতলের মানুষের জন্যও পাহাড়ে সমভাবে জমি ও বাড়ি কেনার সুযোগ থাকা উচিত বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পাহাড়ে সুষম অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই ইস্যুটি বর্তমানে জাতীয় অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এমএম










