মাদক মামলায় সদ্য জামিন পাওয়া আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরিমণি ২৯ বসন্ত পার করে ৩০–এ পা রাখলেন। পরীমণির জন্মদিন মানেই নতুন চমক। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বিমানের ককপিটের আদলে সাজানো হয়েছিল পরিমণির জন্মদিনের মূল মঞ্চ। ওপরে লাইট বসানো ইংরেজিতে লেখা 'ফ্লাই উইথ পরীমণি' অর্থাৎ 'পরীমণির সঙ্গে ওড়ো'।

উল্লেখ্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি ও তার দুই সহযোগী।

গত মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রবিউল আলমের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তারা।

এসময় তাদের আইনজীবী নীলঞ্জনা রিফাত সৌরভী জামিন আবেদন বিষয়ে শুনানি করেন।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিনের আদেশ দেন।

এদিকে জন্মদিনের রাতে বিমানবালার বেশে ককপিটে এসেছিলেন পরীমণি।

শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে জন্মদিন উদযাপন করেন তিনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার এই নায়িকার জন্মদিন উদযাপনের উচ্ছ্বাস ছাড়িয়ে গেছে সব অতীত। আয়োজনের অভিনবত্বেও ছিল নতুনত্ব।

এ দিন অতিথিদের সামনে পরীমনি হাজির হয়েছিলেন বিমানবালার পোশাকে। নেটিজেনদের আলোচনা-সমালোচনায় বড় জায়গা করে নিয়েছে এই পোশাক।

কারণ শরীরের ঊর্ধ্বাংশের পোশাক বিমানবালার হলেও নিম্নাংশের পোশাক তেমন ছিল না। যদিও অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয়েছিল বিমানের ককপিটের আদলে।

শরীরের নিম্নাংশের পোশাক নিয়েই বেশি ট্রলের শিকার হচ্ছেন পরীমনি। কেউ পোশাকটিকে বলছেন লুঙ্গি, কেউ বলছেন ধুতি।

গণমাধ্যমকে পরীমণি বলেন, ‘জন্মদিনের পোশাক আমি নিজেই পছন্দ করেছি। এটার আলাদা কোনো নাম নেই। কোনো ডিজাইনারও পোশাকটি বানায়নি।

অনুষ্ঠানটি ঘরোয়া ছিল, তাছাড়া আমি তো আর সত্যি সত্যি ককপিটে বসে ফ্লাই করবো না। যে কারণে পোশাকের ক্ষেত্রেও কোনো রুলস মেনে করা হয়নি। জাস্ট পছন্দ হয়েছে পরেছি।’

তবে যে যাই বলুক পোশাকে যে ফিউশন ঘটানো হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। এই পোশাকের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় ভারতের তামিল অধিবাসীদের লুঙ্গির সঙ্গে। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে ভেশতি।

পোশাকটি পরার ধরন কেরালার পুরুষদের লুঙ্গির ধরনের সঙ্গে মেলে। কেরালার পুরুষরা লুঙ্গির কাপড়ের নিচের অংশ ভাঁজ করে গুটিয়ে নিয়ে কোমরে বাঁধেন।

পরীমনিও এ দিন এভাবে পোশাকের নিচের অংশ গুটিয়ে কোমরে বেঁধেছিলেন। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের স্থানীয় ঘাগড়া দেখতেও অনেকটা লুঙ্গির মতো।

তবে বিমানবালাদের জন্য প্রচলিত পোশাক সম্পর্কে কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক একটি নিবন্ধে বলেছেন: ‘বিমানবালাদের আকাশে উড্ডীয়মান পোশাক যেটা সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সাথে একেবারে বেমানান।

এমনকি বিদেশে উড্ডীয়মান বাংলাদেশী বিমানবালার জন্যেও বেমানান। কারণ এই পোশাক আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না।’

ফলে স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, পরীমনি জন্মদিনে যে পোশাক পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন তা আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না।

অবশ্য জন্মদিনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এমন পোশাক পরতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এমন পোশাকের ধারণা পরীমনি পেলেন কীভাবে?

এ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘বার্থ ডের ড্রেস আমি নিজেই পছন্দ করেছি। এটার আলাদা কোনো নাম নেই। কোনো ডিজাইনারও পোশাকটি বানায়নি।

অনুষ্ঠানটি ঘরোয়া ছিল, তাছাড়া আমি তো আর সত্যি সত্যি ককপিটে বসে ফ্লাই করবো না। যে কারণে পোশাকের ক্ষেত্রেও কোনো রুলস মেনে করা হয়নি। জাস্ট পছন্দ হয়েছে পরেছি।’

প্রসঙ্গত, বর্তমানে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘গুনিন’ সিনেমার শুটিং করছেন পরীমণি।

গত ২৪ অক্টোবরও গুনিনের শিডিউল দেওয়া ছিল। তবে এ দিন জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে ছুটি নিয়েছিলেন নায়িকা।

এ ছাড়াও এই মুহূর্তে বেশ কয়েকটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে আছেন পরী। গুনিনের পর প্রীতিলতা, বায়োপিক, অন্তরালে এবং মা’সহ আরও বেশ কিছু সিনেমার শুটিং শুরু করার কথা রয়েছে তার।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র্যাব।

গত ৫ আগস্ট বিকেলে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে বনানী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

র্যাব বাদী হয়ে বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে।

সেই মামলায় পরীমনিকে আদালতে হাজির করা হলে প্রথমে চারদিনের রিমান্ড ও পরে আরও দুই দফায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকসেবন করতেন। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। সেখানে নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন।

চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে সিনেমায় ক্যারিয়ার শুরু করা পরীমনি এ পর্যন্ত ৩০টি চলচ্চিত্র ও বেশ কয়েকটি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন।

পিরোজপুরের মেয়ে পরীমনিকে চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে আসেন প্রযোজক রাজ।

এইচএন