সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, সুস্থ জীবনধারা এবং পারস্পরিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই ম্যাচে অংশ নেয় দুটি দল—লাইয়ন্স ও টাইগারস। দুই দলে ১১ জন করে খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন। লাইয়ন্স দলের অধিনায়ক ছিলেন আকাশ, আর টাইগারস দলের নেতৃত্ব দেন জিল্লু। ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন রেফারি সাদমান আকিব।
নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে খেলা শুরু হয়। শুরু থেকেই উভয় দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় টাইগারস। এরপর ২৫ মিনিটে হাইড্রেশন বিরতি হয়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে লাইয়ন্স একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায়। ফলে ১–১ সমতায় প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়।
বিরতির পর ম্যাচ আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় দুই দলের মধ্যে সমতা বজায় থাকলেও শেষ দশ মিনিটে নাটকীয়ভাবে ঘুরে যায় ম্যাচের চিত্র। টাইগারস একের পর এক তিনটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। শেষ পর্যন্ত ৪–১ গোলের ব্যবধানে লাইয়ন্সকে পরাজিত করে জয় তুলে নেয় টাইগারস।
খেলার ফলাফলের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল অংশগ্রহণকারীদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, করতালি ও উৎসাহ। জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রীতি ম্যাচের মূল উদ্দেশ্য ছিল খেলাধুলার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনে উৎসাহিত করাও ছিল এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজক কমিটির প্রধান জনাব নাইম বলেন, প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে খেলাধুলা শুধু শরীরকে সুস্থ রাখে না বরং মানুষে মানুষে দূরত্ব কমায় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। আমরা চাই এই ধরনের আয়োজন নিয়মিত হোক এবং আরও বেশি বাংলাদেশি এতে অংশগ্রহণ করুন।
এই প্রীতি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন মালমোর বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ রিফন। তিনি বলেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের একত্রিত করে, নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে এবং সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।
খেলা শেষে অংশগ্রহণকারী, আয়োজক, দর্শক ও অতিথিরা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। আনন্দঘন পরিবেশে সৌহার্দ্যপূর্ণ আড্ডা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এই মিলনমেলা।
বিশ্বকাপের উন্মাদনার রেশকে উপলক্ষ করে আয়োজিত এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আবারও প্রমাণ করল—প্রবাসে থেকেও খেলাধুলা হতে পারে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন।
এমএম