এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিক্স ফোরাম (বিএনডিএফ), যা বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশন অব নিউট্রিশনিস্টস অ্যান্ড ডায়েটিশিয়ানস ফর সোশ্যাল সার্ভিসেস (এএনডিএসএস) নামে পরিচিত, তাদের অতীত কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এবং একটি পেশাদার বৈজ্ঞানিক সংগঠন হিসেবে প্রত্যাশিত নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ডায়েট- যা একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র- সেটিকে রাজনৈতিক প্রচার, দলীয় আনুগত্য এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রচারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা পেশাগত নৈতিকতার পরিপন্থী বলে সমালোচকরা মনে করেন। তাদের অভিযোগ, সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা শামসুন্নাহার মহুয়া এবং তার সহযোগী তামান্না চৌধুরী ও চৌধুরী তাসনিম হাসিনা ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক স্বার্থে পুরো পুষ্টি খাতকে বিতর্কিত করেছেন। ফলে পেশাজীবীদের নিরপেক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও সমালোচনা রয়েছে।

f7996cc3-f272-48fc-98ab-88e035311674

সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এএনডিএসএস একটি পেশাদার সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসা ও পুষ্টির মতো মানবসেবামূলক খাতকে রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করেছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা বৈজ্ঞানিক ও পেশাগত নিরপেক্ষতার পরিবর্তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অংশ নেন।

এর একটি বহুল আলোচিত উদাহরণ হিসেবে ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুরের শিবচরে বিএনডিএফ আয়োজিত একটি "ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা" কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, "মুজিব শতবর্ষ" উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তৎকালীন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য বেগম শবনম জাহানকে প্রধান ও বিশেষ অতিথি করা হয়।

সমালোচকদের আরও দাবি, ওই সময় এএনডিএসএস-এর সাধারণ সম্পাদক তামান্না চৌধুরীর সঙ্গে উল্লিখিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। এছাড়া সংগঠনের তৎকালীন এজিএস চৌধুরী তাসনিম হাসিনের সঙ্গেও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এসব সম্পর্কের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে।

এছাড়া দ্য এশিয়ান এজ, আজকালের খবর, আমাদের সময় এবং সমকাল-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সমালোচকরা দাবি করেন, ওই স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মঞ্চে তৎকালীন চিফ হুইপ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বক্তব্য দেন। প্রশ্ন উঠেছে, একটি পেশাদার পুষ্টিবিদদের সংগঠন কীভাবে তাদের মঞ্চকে এমন রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানের জন্য ব্যবহার করতে দিল।

সমালোচকরা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী আলোচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন হায়দারের সঙ্গে একই মঞ্চে এসব ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে। তাদের মতে, অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান ও বর্তমানের ভূমিকার মধ্যে এই বৈপরীত্যও জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টির মতো একটি সংবেদনশীল খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, পেশাগত নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং বৈজ্ঞানিক সংগঠনগুলোর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

এনএইচ