বিশেষজ্ঞদের অনুমান ও গবেষণার ভিত্তিতে দেখা যায়, সামরিক খাতটি বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৩ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত দায়ী হতে পারে। যদি সামরিক বাহিনীকে একটি দেশ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে তাদের নিঃসরণ চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পরেই চতুর্থ বৃহত্তম হতে পারে—এমন অজানা নয়।
২০২৪ সালে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় প্রায় ২.৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়; এটি আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে অনেক দেশ তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে—এবং এসব বৃদ্ধি জ্বালানি-নির্ভর সামরিক উৎপাদন ও অপারেশনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ বাড়াচ্ছে।
বিশেষ করে যোদ্ধিবিমান, ট্যাংক, যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের মতো ভারী অস্ত্রসামগ্রী জ্বালানি-তীব্র। গবেষণা দেখায়, যুদ্ধবিমানগুলো বর্তমানে বর্তমান ব্যবহৃত যন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে জ্বালানিখোরের মধ্যে পড়ে; উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান নির্দিষ্ট দূরত্ব উড়ে যে পরিমাণ CO₂ নিঃসরণ করে, তা অনেক সাধারণ ব্যক্তিগত গাড়ির বা এমনকি দেশগুলোর নির্দিষ্ট সময়কালের নিঃসরণের সমতুল্য হতে পারে।
সামরিক কার্যক্রম থেকেই উদ্ভূত কার্বন নিঃসরণের কিছুটি আমাদের সামরিক সেক্টরের অডিট বা স্বচ্ছতায় ধরা পড়ে না—অনেক দেশই এ ধরনের নিরীক্ষিত তথ্য প্রকাশ করে না—তাই বৈশ্বিক চিত্রটি অনুমান ও মডেলিং-এ ভিত্তি করে নির্মিত। কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরি প্রভৃতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ইঙ্গিত করে, সামরিক ব্যয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে নিঃসরণ আরও বাড়তে পারে।
এই বৃদ্ধির আর্থিক প্রভাবও গভীর। যতটা অর্থ প্রতিরক্ষণে ব্যয় করা হচ্ছে, ততটাই কম অর্থ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও অভিযোজনের জন্য উপলব্ধ থাকে—একই সময়ে গবেষণা-ভিত্তিক আহ্বান মনে করিয়ে দেয় যে বিশ্বে জলবায়ু-সম্পর্কিত বছরের বিশাল অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের বার্ষিক অর্থায়ন ঘাটতি ইতোমধ্যে বহু ট্রিলিয়ন ডলারের। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ভবিষ্যতে আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখায়।
কিছুবছর ধরে দেখা গেছে নির্দিষ্ট সংঘাতগুলো পরিবেশগত দিক থেকে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে—উদাহরণস্বরূপ সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে লক্ষ লক্ষ টন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ নিরূপণ করা হয়েছে। এ ধরনের নিঃসরণ শুধু তাত্ক্ষণিক তাপীয় প্রভাব নয়, পরিবেশ ও অবকাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি ধ্বংসাত্মক প্রভাবও ফেলে।
নেটেো ও কয়েকটি দেশ কার্বন নিঃসরণ কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে—কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিকার্বনাইজেশনের প্রচেষ্টা এখন যে হারে হচ্ছে তা সামরিক ব্যয়ের বৃদ্ধি ও অস্ত্র-প্রযুক্তির বর্তমান প্রকৃতির তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে ক্ষুদ্র। প্রযুক্তিগতভাবে উচ্চ-উৎপাদনশীল অস্ত্রব্যবস্থাকে স্বল্প-কার্বন বিকল্পে রূপান্তর করা জটিল ও ব্যয়বহুল; ফলে অবিলম্বে শূন্য-নিঃসরণ বাস্তবসম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেন যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হওয়াই সংঘাত-প্রবণতা কমাতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে নিঃসরণ বাড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে—তবে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, শক্তিশালী সামরিকীকরণ কি জলবায়ুর ওপর আঘাত কমাবে, নাকি তা আরও ত্বরান্বিত করবে?
এনএইচ