শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

মোহসেন রেজায়ি বলেন, ইরানে হামলার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মূর্খতা’ প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে এ হামলা বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সদস্যপদ কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ঠেকাতে সক্ষম নয়—এমন ধারণা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ও কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এমনকি ইরানের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকও তারা লঙ্ঘন করেছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল নতুন করে সাজানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রেজায়ি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যেসব দেশ অংশ নেবে, তেহরান তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনের অন্যান্য রুটেও হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরানের রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও আলোচনার ব্যর্থতার পর বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

এর আগে গত বুধবার ইরানের অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন অভিযানের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর কথা জানান। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা বা কোনো ধরনের সহযোগিতা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন।

এরই মধ্যে ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।

এস