ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪০ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদের পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রস্তাবটি মঙ্গলবার পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। তবে এমন আকস্মিক পরিবর্তনে দেশটির কয়েকজন আইনপ্রণেতা অসন্তোষ ও অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

বিদায়ী ভাষণে সভিরিদেনকো বলেন, এই বছরের প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত এবং জোরালো পদক্ষেপের দাবি রেখেছিল। যে বিশ্বাস ও সমর্থন আমি পেয়েছি, তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনারা জানেন, আমি সবসময় ফলাফলেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছি।

দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির একটি মামলা জনসমক্ষে আসার পর এক বছর আগে সভিরিদেনকোকে মন্ত্রিসভার দায়িত্বে আনা হয়েছিল। তবে এরপর থেকে দুর্নীতি দূর বা প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান চালাতে তিনি যথেষ্ট পরিমাণ দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছিলেন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করছে এবং এ জন্য নতুন মুখের প্রয়োজন। তবে এর বাইরে নতুন করে মন্ত্রিসভায় রদবদল আনার আর কোনও কারণ স্পষ্ট করেননি তিনি।

ইউক্রেনের বিরোধী দল হলোসের আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক বিদায়ী সরকারের সমালোচনা ও উপহাস করে বলেন, ‌‌আমাদের প্রতিদিন ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছে। প্রতিদিন শুধু প্রেজেন্টেশন হয়েছে, প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন হয়েছে এবং প্রতিদিন আমরা দুর্নীতির মামলায় নতুন একজন করে সন্দেহভাজন পেয়েছি।

সভিরিদেনকোর এই বিদায়ে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী পুরো সরকারের পদত্যাগ নিশ্চিত হয়েছে। আইনপ্রণেতারা বলেছেন, দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সের্হি কোরেতস্কি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সভিরিদেনকোর পূর্বসূরি ডেনিস শমিহাল কিংবা বর্তমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভও রয়েছেন।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কোর জ্বালানি অবকাঠামো এবং অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতি ও অর্থনীতি সচল রাখা এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার অবিরাম হামলার ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের কাজ তদারকি করে থাকেন।

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী সভিরিদেনকো বলেন, আসন্ন নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শীতকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ শীতকালে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড এবং গ্যাস লাইনে রাশিয়ার হামলার তীব্রতা দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স।

এমএম