সূত্র জানায়, নিহতরা হামাসের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল এবং ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে হামাসের ছয় সদস্যও নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
রাফাহ অঞ্চলে সক্রিয় হামাসবিরোধী নেতা ইয়াসের আবু শাবাবের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে। গাজার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, হামাস ইতিমধ্যে তার ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীকে হত্যা করেছে। হামাস অভিযোগ করেছে, আবু শাবাব ইসরাইলের সহযোগী; যদিও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সোমবার সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী বন্দুকধারীরা গাজার রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসা কয়েকজনকে গুলি করছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা নিহতদের ‘সহযোগী’ বলে উল্লাস করছে। রয়টার্স এখনো ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
গত মাসেও হামাস-নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষ ইসরাইলের সহযোগিতার অভিযোগে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল।
এদিকে, সোমবার হামাস ইসরাইল থেকে আটক শেষ জীবিত জিম্মিদের মুক্তি দিয়েছে। এ সময় গাজা জুড়ে মোতায়েন ছিল হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের সদস্যরা। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি গাজায় স্থায়ী শান্তিচুক্তি অর্জনের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
হামাসের গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানিয়েছেন, কোনোভাবেই নিরাপত্তা শূন্যতা সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। হামাস জননিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষায় কঠোর নজরদারি চালাবে।
হামাস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে তারা তাদের অস্ত্র সেই রাষ্ট্রের হাতে সমর্পণ করতে প্রস্তুত। তবে গাজার ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার ঐকমত্যে—কোনো বিদেশি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া।
ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক রেহাম ওউদার মতে, হামাসের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতাকারী গোষ্ঠীগুলোকে ভয় দেখানো এবং নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো নতুন সরকারে টিকে থাকার যোগ্য হিসেবে তুলে ধরা।
এনএইচ