আন্দোলনকারী জোট গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানায়, গাজা উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৪৬০ কিলোমিটার) দূরে, ইসরাইলের আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ এলাকায় তাদের নৌবহর আটক করা হয়। সংগঠনটি ঘটনাটিকে “অবৈধ জলদস্যুতা” বলে অভিহিত করেছে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা এর প্রকাশিত ভিডিও সম্প্রচার দেখা যায়, সশস্ত্র কমান্ডোরা কয়েকটি নৌকায় উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয়।

তবে এ বিষয়ে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে তারা নৌবহরটিকে “উস্কানিমূলক অভিযান” বলে উল্লেখ করেছিল।

এর আগেও গত মাসে ক্রিট দ্বীপের কাছে একই ধরনের নৌবহরের ২২টি নৌকা আটক করেছিল ইসরাইলি বাহিনী। সে সময় প্রায় ১৭৫ জন আন্দোলনকর্মীকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে নৌবহরের বাকি জাহাজগুলো তুরস্কের মারমারিস বন্দরে ফিরে যায় এবং সেখান থেকে আবার গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

আন্দোলনকারীরা জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকলেও গাজার ২১ লাখ মানুষের বড় অংশ এখনো বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে এবং মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাই তারা জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এই অভিযান চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে ইসরাইল বলছে, গাজার ওপর আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ এবং তারা কোনো লঙ্ঘন হতে দেবে না।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় জরুরি খুচরা যন্ত্রাংশ, ব্যাকআপ জেনারেটর, জ্বালানি ও ইঞ্জিন তেলের ঘাটতির কারণে মানবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তাদের তথ্যমতে, গাজায় প্রবেশের জন্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ যে মানবিক সহায়তা অনুমোদন করেছে, তার মাত্র ৮৬ শতাংশই সীমান্ত ক্রসিংয়ে পৌঁছাতে পেরেছে। বাকি সরবরাহ ফেরত পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭২ হাজার ৭৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

এস