মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রেখে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার একটি নিরাপদ পথ বা "অফ-র্যাম্প" খুঁজছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তিনি এ বিষয় নিয়ে কথাও বলেছেন। তিনি তাদেরকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বিকল্পগুলো সীমিত হয়ে পড়া এবং অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার কারণে তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে একান্তে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, জেনারেল কেইন তার উদ্বেগ নিয়ে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থল অভিযান এড়াতে চাইলেও জেনারেল কেইন এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানতে বাধ্য করা সম্ভব নয়।
জুলাই মাসের শেষের দিকে প্রস্তাবিত একটি সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে কেইনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সন্দিহান ছিলেন। মার্কিন মিত্রদের ওপর এবং আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় তারা এই অবস্থান নেন। উপসাগরীয় অংশীদাররা সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করার পর ট্রাম্প চূড়ান্তভাবে ওই সামরিক অভিযান স্থগিত করেন।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সক্ষমতা কমার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নির্ভুল যুদ্ধাস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ায় এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সিএনএন জানায়, জেনারেল কেইন সামরিক ঝুঁকির বিষয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন। তবে নির্দেশ পেলে মার্কিন বাহিনী ইরানের ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম বলেও তিনি জোর দিয়েছেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা এখন এমন একটি ফলাফলের সন্ধান করছেন, যা ট্রাম্প একটি রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তিসহ কূটনীতির পথও খোলা রাখতে চাইছেন তারা।
এস