হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ইউক্রেনে অন্তত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু মস্কো তাতে রাজি হয়নি। ফলে বৈঠক আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈঠকের কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।”

তিনি আরও জানান, কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তখন ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির শর্তে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে মস্কো জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি দেওয়া সম্ভব নয়। এর পরেই ওয়াশিংটন বৈঠক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে তিনি কয়েক দফা প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গত ১৫ আগস্ট আলাস্কায় তাদের মধ্যে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেটিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

সম্প্রতি ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানে তিনি আবারও পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন, যা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে। অক্টোবরের শেষ দিকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

বৈঠক স্থগিতের বিষয়ে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি অকারণে কোনো বৈঠক করতে চাইনি, তাই আপাতত বৈঠক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “এটা স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়। পরিস্থিতি বদলাতে পারে। আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের দিকেই এখন নজর রাখুন।”

অন্যদিকে, রাশিয়ার বিনিয়োগ বিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের প্রস্তুতি কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ খোলা আছে।

সূত্র : রয়টার্স

এনএইচ