ইউক্রেনীয় সেনা সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই হামলা বৃহৎ পরিসরের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান অভিযানের অংশ ছিল। টার্গেট করা হয় রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলের একটি রাসায়নিক কারখানা—যেখানে গানপাউডার, বিস্ফোরক ও রকেট জ্বালানির উপাদান উৎপাদন করা হয়। ইউক্রেনের দাবি, এসব উপকরণ রুশ সেনারা ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হামলায় ব্যবহার করে থাকে।

রাশিয়া এ ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করে আসছে, যাতে ইউক্রেনকে দূরপাল্লার অস্ত্র সরবরাহ না করা হয়।

অন্যদিকে, কিয়েভের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্র চালাতে যেসব শিল্পকারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সেগুলোতে হামলা চালানো যুদ্ধের কৌশলগত প্রয়োজন।

একই দিনে ইউরোপীয় নেতাদের এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, রাশিয়ার অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি হচ্ছেন। বিবৃতিতে অংশ নেয় ইউক্রেন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্ব। তারা বলেন, যুদ্ধবিরতির যেকোনো প্রক্রিয়ায় ইউক্রেনকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কির বৈঠকে ‘টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ সরবরাহের বিষয়টি আলোচনায় এলেও ট্রাম্প তাতে আগ্রহ দেখাননি। একই সঙ্গে পরিকল্পিত ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বুধবার সকালে রাশিয়া আবারও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিমান হামলা চালায়। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করে, যা এখনো চলমান। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালে সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপও অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিক এই স্টর্ম শ্যাডো হামলাকে ইউক্রেনের পাল্টা প্রতিরোধের নতুন ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এনএইচ