ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ছাত্রনেতা নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মানিক সরকার ও পিনারাই বিজয়ন।

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ১০ হাজার পুরুষ ও চার হাজার নারী পুলিশ সদস্য রয়েছেন। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) এবং উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থানের নিরাপত্তাকর্মীরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে সিজেপি ও কয়েকটি বামপন্থী সংগঠন শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয়। তবে পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।

বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজন সাংবাদিককেও আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে হিন্দি দৈনিক নভভারত টাইমস এবং ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন ও নিউজলন্ড্রির সাংবাদিকেরা ছিলেন। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বিক্ষোভ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ৫০টির বেশি পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা।

দিল্লিতে আটক থাকা অবস্থায় দাদির মৃত্যুর খবর পেয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, শনিবার মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলায় ৮৫ বছর বয়সে মারা যান সাবিত্রীবাই শঙ্কররাও দীপকে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সান্তুক পিম্পরি গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে প্রায় এক মাস ধরে ভুগছিলেন সাবিত্রীবাই। এর আগে তাঁকে হিঙ্গোলির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

দিল্লি পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, আটক অবস্থায় অভিজিৎ দীপকেকে তাঁর দাদির মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। তিনি আটক অবস্থায় আন্দোলন চালিয়ে যাবেন, নাকি দাদির শেষকৃত্যে অংশ নিতে বাড়ি ফিরবেন, সে সিদ্ধান্ত তাঁর ওপর নির্ভর করছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর অভিজিৎ দীপকে, সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও মুখপাত্র সৌরভ দাসকে আটক করে পুলিশ। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীর্ষ নেতারা আটক থাকলেও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

এস