অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পরিচালক হর্ষ পন্তের মতে, ইরান ও তার আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা নয়াদিল্লির জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি বা সর্বসম্মত দলিল চূড়ান্ত করা যায়নি। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরোধ এ ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
পন্তের ভাষ্য, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার আঞ্চলিক বিরোধের প্রভাব এখন ব্রিকসের কার্যক্রমেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতকে চলতি বছর বেশ কঠিন কূটনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।
ব্রিকসে ঐকমত্যের চেষ্টা
হর্ষ পন্ত মনে করেন, যেসব বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কাছাকাছি আনতে ভারত সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
তবে সমস্যা হচ্ছে, দুই দেশই ব্রিকসের চূড়ান্ত দলিলে নিজেদের অবস্থানের প্রতিফলন দেখতে চায়। ফলে একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানো সহজ হবে না।
তার মতে, এই প্রচেষ্টা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাশিয়া, চীনসহ ব্রিকসের অন্যান্য সদস্যরাও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্রিকসের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন
পন্তের মতে, বিষয়টি কেবল একটি যৌথ দলিল বা বিবৃতি গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে ব্রিকসের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও জড়িত।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্রিকস যদি কোনো ঐকমত্যের দলিল গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিশ্বের বড় একটি অংশের কাছে সংগঠনটিকে অকার্যকর মনে হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিকসের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এস
