লুলা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব বড় যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার বেশিরভাগই শুরু করেছে সেই দেশগুলো, যারা নিজেরাই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য। অথচ গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের সময় তারা নীরব দর্শক হয়ে আছে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
কুয়ালালামপুরে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকের পর লুলা বলেন, “আজ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সম্পূর্ণ অকার্যকর। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো শুরু করেছে সেই দেশগুলোই, যারা এই পরিষদের সদস্য। তারা কোনো পরামর্শ বা জবাবদিহি ছাড়াই এসব যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ এখন কার্যত ‘কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে’, ফলে বিশ্বে কোনো কার্যকর বৈশ্বিক নেতৃত্ব নেই। গাজায় যখন দীর্ঘদিন ধরে গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয় চলছে, তখন নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো কীভাবে চুপ করে বসে থাকতে পারে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিন দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থান করছেন প্রেসিডেন্ট লুলা। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর এটিই তার প্রথম মালয়েশিয়া সফর। সফরকালে তিনি আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বৈঠকে লুলা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার সমালোচনা করেন। তার মতে, এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, লুলা এমন একজন নেতা, যিনি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিকতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। গাজার মানবিক সংকট নিরসন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তার আহ্বান প্রশংসনীয়।
বৈঠক শেষে এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আনোয়ার জানান, দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, খাদ্য ও কৃষি প্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একমত হয়েছে।
এনএইচ