চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই মাসের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই মাসে সন্দেহজনক ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘৃণামূলক অপরাধে অন্তত চারজন মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুরুষদের একটি দল তার খালার বোরকা পরা নিয়ে আপত্তি তোলার পর এ ঘটনা ঘটে।
অন্য একটি ঘটনায় ‘লাভ জিহাদ’-এর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সামনে এনে এক স্কুলশিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ নিয়ে ২০২৬ সালে উত্তর প্রদেশে ঘৃণামূলক অপরাধে নিহত মুসলিমের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। অথচ, পুরো ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭। এ ছাড়া গত ৫ আগস্ট শামলিতে পুলিশের গুলিতে এক মুসলিম নিহত হন।
গ্রেপ্তারের আগে বিচারবহির্ভূত বা ‘হাফ এনকাউন্টার’-এর নামে পুলিশের গুলিতে মুসলিমদের আহত হওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এতে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে ২৭টিতে এ ধরনের ঘটনায় অন্তত ৭০ জন মুসলিম গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫২ জনের বিরুদ্ধে গরু জবাই বা চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এ ছাড়া অন্তত ১৫২ জন মুসলিমকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন নারী রয়েছেন। অনলাইনে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করায় জেলবন্দি হওয়া পুরুষেরাও এই তালিকায় রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১২ বছর বয়সী এক বালক ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে অস্বীকার করায় মারধরের শিকার হয়েছে। তবে নথিভুক্ত ১৪টি মারধরের ঘটনার একটিতেও হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্যেরও নিন্দা জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট দুই মাসে চিহ্নিত ২১টি ঘৃণাভাষণের মধ্যে ১০টির সঙ্গেই উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জড়িত ছিলেন।
এ ছাড়া রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও অন্য এক মন্ত্রীর বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ৩৪টি মুসলিমের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ডিগ্রি প্রদানের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এ ছাড়া ১০টি জেলায় অন্তত ১২ বার বিরোধী দলের রাজনীতিবিদদের গৃহবন্দী রাখা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা কিংবা ভাঙচুরের শিকার এলাকাগুলো পরিদর্শন করা থেকে তাদের বিরত রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ এবং নির্বাচনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ঘটনার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রামাণ্য দলিল তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএম















