সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের চার দিনের জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। দুই সপ্তাহ আগের জরিপের তুলনায় এ হার ১ শতাংশ কমেছে।
কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলকে ভোট দেবেন, এমন প্রশ্নে নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৭ শতাংশ ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ৩৫ শতাংশ রিপাবলিকান পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এতে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশে। চলতি নির্বাচনি চক্রে ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় ব্যবধান। দুই সপ্তাহ আগের জরিপে দলটি রিপাবলিকানদের চেয়ে ৭ শতাংশ এগিয়ে ছিল।
নারী ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বেশি। জরিপে ৫০ শতাংশ নারী ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩২ শতাংশ। পুরুষ ভোটারদের মধ্যেও এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা, যদিও দুই দলের ব্যবধান তুলনামূলক কম।
অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় চাপ তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে।
অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে তারা ট্রাম্পের ওপর সন্তুষ্ট নন। অসন্তুষ্টদের মধ্যে স্বঘোষিত রিপাবলিকানও রয়েছেন ৩৭ শতাংশ।
অর্থনীতি পরিচালনায় কোন দলকে বেশি আস্থার যোগ্য মনে করেন, এমন প্রশ্নে ৪০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা রেখেছেন ৩৩ শতাংশ।
নির্বাচনে চাপে পড়তে পারে রিপাবলিকানরা
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের যে কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের জন্য বাকি মেয়াদে নিজের নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে জাতীয় পর্যায়ের এই জরিপ থেকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কারণ, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হয় অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনি এলাকাভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে। এসব ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের কিছু কাঠামোগত সুবিধা রয়েছে।
অনলাইনে পরিচালিত এ জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাদের মধ্যে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ১ হাজার ২৭৯ জন। সব উত্তরদাতার ক্ষেত্রে জরিপের সম্ভাব্য ভুলের সীমা ২ শতাংশ এবং নিবন্ধিত ভোটারদের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ।
সূত্র: রয়টার্স
এনএইচ











