ভারতে চলমান ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের কোনো আঞ্চলিক পাহারাদারের দরকার নেই।”
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই অঞ্চলের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা কেবল ভূখণ্ডের মূল অংশীদার এবং এখানকার দেশগুলোর মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে পুরো অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয় তেহরান।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকটাই অবাধ ছিল। তবে বর্তমানে ইরান এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করেছে। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের জন্য সার্ভিস ফি নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে তেহরান।
ইরানের এই নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিতে পর্যায়ক্রমে দেশটির উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করছে মার্কিন বাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালির অবরোধের প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। চলতি সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তিনি বলেন, “আমাদের ওপর নানামুখী অন্যায়-অবিচার সত্ত্বেও আমরা যুদ্ধ কিংবা এই সংঘাতের দীর্ঘসূত্রতা চাই না। শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।”
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিরোধিতা এবং অন্যদিকে চলমান সংঘাতের অবসানে ইরানের আগ্রহের বিষয়টি উঠে এসেছে।
সূত্র: এএফপি
এমএম
