বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে তিন দেশ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করবে।

এদিকে এএফপির খবরে বলা হয়েছে, জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ চুক্তি এমন এক সময়ে আসছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এ উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমন্বয় আরও জোরদার হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, এই চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করেছে। সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নিশ্চিত করেছে যে, শুক্রবারই চুক্তিটি সই হবে।

লোহিত সাগরের তীরবর্তী শহর জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তারা আগামীকাল শনিবার (৮ আগস্ট) পর্যন্ত দেশটিতে সফর করবেন। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্সির তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান শুক্রবার জেদ্দায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের এ সফর ৬ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ সফর অনুষ্ঠিত হলেও, এর গুরুত্ব তাৎক্ষণিক সংকট বা স্বল্পমেয়াদি পরিস্থিতির চেয়েও অনেক বেশি।’

গত কয়েক মাস ধরে এই তিন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য একটি কৌশলগত জোট গঠনের বিষয়ে নানা জল্পনা চলছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। অন্যদিকে গাজা যুদ্ধের সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে তুরস্ক।

এর আগে ২০২৫ সালে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল। মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তান হওয়ায় সে সময় বিষয়টি ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছিল।

এমএম