ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘কয়েক দিন আগপর্যন্ত এই হামলা অব্যাহত ছিল। তবে গত দুই রাত ধরে আমেরিকানরা তাদের আক্রমণ বন্ধ রেখেছে। যেহেতু আমাদের কৌশলটি মূলত ছিল বিরোধিতামূলক বা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপর জবাবে পাল্টা আঘাত হানা, তাই আমরাও আপাতত আমাদের পাল্টাধাওয়া ও প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান স্থগিত করেছি।’
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংঘাত একপর্যায়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে এই যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, আঞ্চলিক জাহাজ চলাচল এবং মার্কিন মিত্র গালফ (উপসাগরীয়) দেশগুলোর ওপর হামলায় রূপ নেয়।
তবে সাম্প্রতিক এই বিরতি নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আশা জাগিয়েছে। যদিও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরসহ অন্যান্য আত্মরক্ষামূলক অস্ত্রের সংস্থান বজায় রাখার চাপ থেকেই আমেরিকা এই হামলা স্থগিত রেখে থাকতে পারে।
সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে, পেন্টাগনের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বর্তমানে “স্থগিত” রয়েছে। যদিও শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে “এর চেয়ে অনেক বড় মাত্রার” হামলার হুমকি দিয়েছেন।
অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় সংঘাত আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জেনারেল কেইন ট্রাম্পকে জানান, সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় অভিযান চালাতে সক্ষম হলেও এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, আল আরাবয়্যিা
এস