বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সচিব ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মনোনয়ন দৌড়ে ট্রাম্পের অবস্থান:
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মনোনীত করার বিষয়টি নোবেল কমিটি প্রথা অনুযায়ী সরাসরি নিশ্চিত না করলেও হার্পভিকেন এর জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ইসরায়েল, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার নেতারা ট্রাম্পকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগের জন্য ট্রাম্প নিজেকে দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরস্কারের দাবিদার মনে করছেন। মজার ব্যাপার হলো, ২০২৫ সালের নোবেল বিজয়ী ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার নিজের পদকটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছেন।
আলোচনায় আরও যারা:
ট্রাম্প ছাড়াও এ বছর সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় বেশ কিছু প্রভাবশালী নাম ও সংস্থার নাম শোনা যাচ্ছে:
রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী নেতা আলেক্সি নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া।
ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও।
সুদানের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স রুমস’।
আর্কটিক অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে অবদানের জন্য মার্কিন সিনেটর লিসা মুরকোস্কি এবং ডেনিশ সাংসদ আজা কেমনিটজ।
যাচাই-বাছাই ও গোপনীয়তা:
নোবেল কমিটির সচিব হার্পভিকেন জানান, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে শান্তি পুরস্কারের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তবে কারা মনোনীত হয়েছেন সেই তালিকা পরবর্তী ৫০ বছর পর্যন্ত কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সাবেক বিজয়ীরা নাম প্রস্তাব করতে পারেন।
কবে জানা যাবে বিজয়ীর নাম?
নরওয়েজিয়ান পার্লামেন্ট কর্তৃক নিযুক্ত পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি সব মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে এবং আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। বিজয়ীরা সম্মাননার পাশাপাশি একটি স্বর্ণপদক এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন (প্রায় ১.১৫ মিলিয়ন ডলার) অর্থ পুরস্কার পাবেন।
উল্লেখ্য, ১৯০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১১৪ বার নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে এই গৌরবময় সম্মাননা অর্জন করেছিলেন।
এমএম