শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, নিহত সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুনায়েদ তারিক ও মেজর তায়্যাব রাহাত রয়েছেন। তারা একটি গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানের (আইবিও) সময় প্রাণ হারান।
আইএসপিআর-এর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানটি পরিচালিত হয় ‘বিদেশি সমর্থনপ্রাপ্ত’ জঙ্গিগোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সদস্যদের উপস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে। ৭ ও ৮ অক্টোবর মধ্যরাতে ওরাকজাই জেলায় এই অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে ১৯ জন জঙ্গি নিহত হয় বলে সেনাবাহিনী দাবি করেছে।
এর আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার দেরা ইসমাইল খান জেলায় আরেক অভিযানে সাতজন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়। ওই অভিযানে নেতৃত্বদানকারী মেজর সিবতাইন হায়দারও নিহত হন। ৩০ বছর বয়সী এই সেনা কর্মকর্তা কোয়েটা জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
সম্প্রতি সেনা সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ২৭২তম কর্পস কমান্ডার্স সম্মেলনে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিদেশি সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংসের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অন্যদিকে, ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (CRSS)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে পাকিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় দেশজুড়ে অন্তত ৩২৯টি সহিংস ঘটনায় ৯০১ জন নিহত ও ৫৯৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক, নিরাপত্তা সদস্য ও জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরাও রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি সহিংসতা দেখা গেছে আফগান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে—যা দেশের মোট সহিংস ঘটনার প্রায় ৯৬ শতাংশ। শুধুমাত্র খাইবার পাখতুনখোয়াতেই নিহত হয়েছেন প্রায় ৬৭০ জন, যা মোট সহিংসতার প্রায় ৭০ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানে সীমান্তবর্তী জঙ্গি তৎপরতা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা নতুনভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে।
এনএইচ